ক্রিকেট লাল ও সাদা বলের পার্থক্যটা আসলে কি?

0


ক্রিকেট খেলায় শক্ত, দেখতে গোলাকার যে বস্তুটি সারা মাঠ ব্যাপি খেলোয়াড়দের দাপিয়ে নিয়ে বেড়ায় সেটিই ক্রিকেট বল।

ক্রিকেট বল দেখতে গোলাকার হলেও পুরোপুরি গোলাকার নয়! এর একদিকের পরিধি ২২৪ মিমি আর আরেকদিকের পরিধি ২২৯ মিমি এবং ওজন ৫.৭ আউন্স। আবার, আমরা অনেকেই জানি বলটি কাঠের তৈরি কিন্তু মুল বলটি আসলে কর্কের তৈরি। অনেকগুলো ছোট ছোট টুকরো কর্ক যেগুলো একসাথে জোরের মাধ্যমে চাপ দিয়ে আটকে রাখা হয়। আর এই একসাথে লাগোয়া কর্কগুলোকে চামড়া দিয়ে মুড়িয়ে সুতা দিয়ে মজবুতভাবে সেলাই করা হয় এবং উপরে আঠাও লাগানো হয় যা কিনা ক্রিকেট বলকে একটি ধারালো ও সুন্দর ঝকঝকে আবহ এনে দেয়।

ক্রিকেট বলের ধরণঃ

চামড়ায় মোড়ানো ক্রিকেট বল দিন-রাত নির্ভর করে বল দেখার সুবিধা,খেলার ধরন,অবস্থা,ক্রিকেটারদের জার্সির রঙ এর উপর নির্ভর করে রঙ এর বদল হয়। সাধারণত বলটি লাল রঙের হয়ে থাকে,তবে খেলার অবস্থার উপর নির্ভর করে এটি সাদাও হয়ে থাকে। ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে সাদা বল ব্যবহার করা হয় অন্যদিকে টেস্ট ক্রিকেটে লাল বল ব্যবহার করা হয়। তবে বর্তমান সময়ে দিবারাত্রির টেস্ট ক্রিকেটের জন্য পিংক কালারের বলের ব্যবহার দেখা যায়।

এছাড়াও পেশাদার ঘরোয়া ক্রিকেটে সনাতনী পন্থায় লাল বল ব্যবহার করা হয়। একদিনের আন্তর্জাতিক বিশেষ করে ফ্লাডলাইটে দৃশ্যমান হবার জন্য সাদা বল ব্যবহার রীতি চালু হয়। যতদূর জানা যায়, ১৯৭৯ সলের ২৭ নভেম্বর অস্ট্রেলিয়ার সিডনি ক্রিকেট গ্রাউন্ডে অনুষ্ঠিত হয়েছিল প্রথম দিবা-রাত্রি ম্যাচ আর তখন থেকে সাদা বলের ব্যবহার শুরু।

ক্রিকেট বল প্রস্তুতকারী কোম্পানির কথাঃ

ক্রিকেট আইন অনুসরণ করে বল প্রস্তুতকারী সংস্থাগুলো প্রথম শ্রেনীর ক্রিকেটের উপযোগী বল প্রস্তুত করে থাকে। বল প্রস্তুতকারী কোম্পানি কুকাবুরা দাবী করে, তাদের সাদা এবং লাল বল প্রস্তুতে তারা একই পদ্ধতি ব্যবহার করে শুধু এই লাল,সাদা রঙ ছাড়া। তারা এটাও জোড়ালো ভাবেই দাবি করে, এই বল দুটিতে শুধু রঙ এই পার্থক্য আনা হয়েছে কিন্তু সুইং প্রোপার্টি দুই বলেই সমান। তবে খেলোয়ার, ক্রিকেটবোদ্ধাদের মধ্যে সাদা বলে সুইং বেশি করে বলে বিতর্ক রয়েছে। সাদা কুকাবুরা বল একদিনের আন্তর্জাতিক ও টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে এবং লাল কুকাবুরা বল টেস্ট ক্রিকেট ম্যাচে ব্যবহার করা হয়।

বল তৈরির ক্ষেত্রে অন্য একটি প্রস্তুতকারি কোম্পানী ডিউক এর আলাদা প্রস্তুত প্রক্রিয়া রয়েছে। তারা এটা দাবি করে যে তাদের ট্রেডিশনাল লাল বল গুলোর চেয়ে সাদা বল গুলো বেশি সুইং করে এবং যেটা প্রমাণিত। এই দাবীর পিছনে কাজ করে পলিইউরেথেন আবরণ যা সাদা চামড়ার এই বলকে খুব তাড়াতাড়ি নোংড়া হওয়া থেকে বাঁচায়। এই আবরণ বলকে মসৃণ,সমতল এবং বায়ুর গতি পরিবর্তন করে সুইং ধরে রাখতে সহায়তা করে।

ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও ইংল্যান্ডে ডিউক বল ব্যবহৃত হয়। এই বল গুলো পেস বোলারদের জন্য খুব উপকারী। কারণ কুকাবুরা বলের তুলনায় এই বলের সিম (বলের উপরের সুতা) বেশ ভালো হয়। যা কিনা বাতাসে সুইং কিংবা পিচে পড়ে আরো ভালো সুইং করতে পারে। ভারতে এসজি বল ব্যবহৃত হয়। অন্য দেশগুলো কুকাবুরা বল ব্যবহার করে।

ক্রিকেট বল নিয়ে অনেক কথা হলো। এবার আরেকটা অবাক করা গল্প বলে আজ শেষ করি। বিশ্বের সবচেয়ে দামি বলটির দাম কতো হতে পারে, ভাবেন তো? বলটি তৈরি করা হয়েছিল ২০০৪ সালের নভেম্বর মাসে, শ্রীলঙ্কায়। বলটা ছিল পুরোটাই হীরার তৈরি! ওজন ৫৩.৮৩ আউন্স। আর বলটির সিম কী দিয়ে বানানো হয়েছিল, জানেন? একদম খাঁটি সোনা দিয়ে! পুরো ১২৫ গ্রাম স্বর্ণ দিয়ে বানানো হয়েছিল বলটির সিম!

আরো পড়ুন

SHARE

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Time limit is exhausted. Please reload the CAPTCHA.